আজ - |

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের মুখপাত্র, বর্তমান দায়িত্ব ও কৌশলগত অবদান

News Probashirkotha24.com
  • আপডেট টাইম :    বুধবার | আগস্ট ২৭, ২০২৫ | ০৬:৪০ এএম
  • ৫০৭৫ বার
নিজস্ব প্রতিনিধি

ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের পঞ্চদশ ব্যাচের কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় 'বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা' উইং এর প্রধান হিসেবে এবং 'আমদানী ও রপ্তানী প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়' এর প্রধান নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। এছাড়া, তিনি বাণিজ্য সংগঠনের মহাপরিচালক হিসেবেও তিন মাস (আগস্ট/২০২৪ হতে অক্টোবর/২০২৪ পর্যন্ত) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৩০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে জনপ্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন পদে দায়িত্বপালন করে ড. নাজনীন 'ভ্যালু এড' করে প্রতিটি কর্মস্থলকে তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি, কূটনীতিবিদ হিসেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের 'অর্থনৈতিক উইং' এর প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে তিনি প্রভূত অবদান রেখেছেন।
ড. নাজনীন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ 'বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা'য় এবং এর বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে ও ফোরামে বাংলাদেশের 'কান্ট্রি ফোকাল পয়েন্ট' হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। কর্মজীবনে ড. নাজনীন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, 'বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক নেগোসিয়েশন' এর যাবতীয় কাজের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন, 'বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক নেগোসিয়েশন কমিটি' এর কো-লীড এবং 'নেগোসিয়েশন কোর গ্রুপ' এর সদস্য হিসেবে নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ। এক্ষেত্রে আলোচক দল অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা ও দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। উল্লেখ্য, আলোচক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে 'অভিনন্দন প্রস্তাব' গৃহীত হয়েছে, যা সকলের অবগতির জন্য ১২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
ড. নাজনীন বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ়করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি; বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত সরকার কর্তৃক গৃহীত ও উন্নয়ন সহযোগীর সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট ও পরামর্শক কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়ন; ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে বাণিজ্য সহজীকরণ, সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন এবং 'বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা' উইং প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি অর্থনীতি ও বাণিজ্য নীতি সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন নীতি সংলাপ (Policy Dialogue)-এ প্যানেলিস্ট, আলোচক ও মডারেটর হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, 'বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫' এর উচ্চ পর্যায়ের নীতি সংলাপ (Policy Dialogue)-এ প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ। তিনি জনপ্রশাসন, অর্থনৈতিক নীতি এবং জেন্ডার-ইনক্লুসিভ নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং লিঙ্গ সমতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার দেশে-বিদেশে অনেককে অনুপ্রাণিত করে।
ড. নাজনীন একজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও গবেষক হিসেবে দেশে ও বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি উইং এ গবেষক, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির 'অস্ট্রেলিয়া-জাপান রিসার্চ সেন্টার' এ গবেষণা সহকারী ও 'ক্রফোর্ড স্কুল অফ ইকনমিক্স এন্ড গভর্ণম্যান্ট' এর বিভিন্ন গবেষণা পত্রের রিভিউয়ার, আন্তর্জাতিক জার্নাল 'অস্ট্রেলিয়ান জার্নাল অফ এগ্রিকালচার এন্ড রিসোর্স ইকনমিক্স' এর 'ম্যানুস্ক্রিপ্ট রিভিউয়ার' হিসেবে দায়িত্বপালন। উল্লেখ্য, তাঁর বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতিমালায় সংযোজিত হয়েছে এবং বাস্তবায়িত হচ্ছে। ড. নাজনীন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ANU) ও চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (CIU)'তে সামষ্টিক অর্থনীতি ও অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক ও Adjunct Professor হিসেবেও দায়িত্বপালন করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবেও ড. নাজনীন যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ড. নাজনীন প্রাবন্ধিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতিতে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান এবং অনার্সে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ড. নাজনীন পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের মেধা বৃত্তি (অস্ট্রেলিয়ান লীডারশীপ এওয়ার্ড স্কলারশীপ ও অস্ট্রেলিয়ান ডেভেলপম্যান্ট স্কলারশীপ, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া এওয়ার্ডস) নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ANU) থেকে অর্থনীতিতে তিনটি উচ্চতর ডিগ্রী (গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, এমএস ও পিএইচডি) সম্পন্ন করেন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী (গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ও এমএস)'তে 'High
Distinction' অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার মূল বিষয় ছিল 'সম্পদ ব্যবস্থাপনা' এবং কেইস স্টাডি ছিল- সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, যেটি 'ব্লু-ইকনমি' হিসেবে পরিচিত। তিনি দেশ ও বিদেশ হতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন করে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি দেশ-বিদেশ হতে বেশ ক'টি এওয়ার্ড ও সম্মাননা অর্জন করেন।
ড. নাজনীন দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিশুকাল থেকে ক্লাস মনিটর হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে এর ধারাবাহিকতাক্রমে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলি অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনাকালেও অব্যহত থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর অবস্থানকালে ড. নাজনীন বিভিন্ন লীডারশীপ পজিশনে থেকে ইউনিভার্সিটি ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, যিনি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এন্ড রিসার্চ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (PARSA)-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং জাতীয় পর্যায়ে কাউন্সিল ফর অস্ট্রেলিয়ান পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এসোসিয়েশন (CAPA)-এর উইম্যান অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই সময়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশী স্টুডেন্ট হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ কাউন্সিল (PRC)-এর সভাপতি হিসেবে এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কাউন্সিল ও ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন প্রশাসনিক কমিটিতে স্টুডেন্ট প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত লীডারশীপ পজিশনসমূহে থাকা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (ABC) টিভি নিউজ ও রেডিও'তে এবং বাংলা রেডিও ক্যানবেরা'তে তাঁর ইন্টারভিউ নেয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম ও ওয়েবসাইটে 'Latest News: Bangladeshi Awardee flies high at ANU' এবং 'Success Story' শিরোনামে তাঁর সাফল্যের বিষয়গুলো প্রকাশিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের দুটি ওয়েবসাইটে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়ান এওয়ার্ডস এলামনাই স্টোরি'তে তাঁর সাফল্যের বিস্তারিত এবং গ্লোবাল এলামনাই স্টোরি'তে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। ড. নাজনীন প্রথম বাংলাদেশী যিনি 'অস্ট্রেলিয়ান লীডারশীপ কনফারেন্স- ২০০৭'এ বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, উক্ত কনফারেন্সে বিশ্বের ৩২টা দেশের ১৮০ জন স্কলারের মধ্যে আয়োজকরা যে ৩জন (বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং কম্বোডিয়া) স্কলারকে নির্বাচন করেন-ড. নাজনীন তাদের একজন। আরো উল্লেখ্য, ড. নাজনীন প্রথম বাংলাদেশী স্টুডেন্ট, যিনি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরের আমন্ত্রণে ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল মান্যবর কুইন্টিন ব্রাইস এসি এবং অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাননীয় কেভিন রাড এমপি'র সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া এওয়ার্ডস উইম্যান ইন লীডারশীপ নেটওয়ার্ক- এর 'দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও মঙ্গোলিয়া' এবং 'বাংলাদেশ', উভয় চ্যাপ্টারের কোর গ্রুপে দায়িত্বপালন করছেন। উল্লেখ্য, ড. নাজনীন সরকারের বেশ ক'টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর/সংস্থার 'উইং প্রধান', 'অফিস প্রধান' ও 'প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা' পদে প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন ও নেতৃত্ব দেন।


ফিচার ক্যাটেগরির আরো সংবাদ