অনলাইন ডেস্ক ,মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা ও আরাকান আর্মির সংঘাতে নতুন করে ঘরছাড়া রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে বাংলাদেশ সীমান্তে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিনই সীমান্ত অতিক্রম করছে রোহিঙ্গারা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, সম্প্রতি মাত্র এক মাসে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও দালাল চক্রের সহায়তায় ভেলায় চড়ে নাফ নদ পার হয়ে অনেকে উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে প্রবেশ করছে। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের ঘরে কিংবা ভাড়া বাসায়ও উঠছে।
উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে আবারও ২০১৭ সালের মতো রোহিঙ্গা ঢল নামতে পারে। স্থানীয়রা আতঙ্কে আছে।”
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সামরিক অভিযান চালানোর পর এক মাসেই সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। জাতিসংঘ সে অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূলের সুস্পষ্ট উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আজও প্রায় আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের তথ্যমতে, সম্প্রতি নতুন করে ১ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তবে অনেকের নাম সরকারি রেজিস্ট্রেশনে নেই। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
রোহিঙ্গা কমিউনিটির সংগঠন কমিটি ফর পিস অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন (আরসিপিআর)-এর সভাপতি দীল মোহাম্মদ বলেন, “আমাদের চাওয়া একটাই—আমাদের আরাকানে ফেরত পাঠানো হোক। বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটাতে চাই না।”
টেকনাফের জাদিমোরা, দমদমিয়া, সাবরাংসহ অন্তত ৩০টি স্পটে নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের তথ্য মিলছে। স্থানীয়রা বলছেন, একবার ছড়িয়ে পড়লে নতুন রোহিঙ্গাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রধান উপদেষ্টার আগের সফরে রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসন নিয়ে আশার সঞ্চার দেখেছিল। এবারের বৈঠক ঘিরেও কক্সবাজার জুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নতুন উদ্যোগ সামনে আসবে কিনা, সেই প্রত্যাশায় সীমান্তজুড়ে অপেক্ষা—আবারও যেন ২০১৭ সালের অন্ধকার অতীত ফিরে না আসে।