নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনার মাঝে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে এনসিপির (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি) পাঁচ শীর্ষ নেতার আকস্মিক কক্সবাজার সফর। ইনানীর বিলাসবহুল সি পার্ল বিচ রিসোর্টে অবস্থান এবং সফর ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। যদিও এনসিপির নেতারা দাবি করেছেন—এটি শুধুই ‘ব্যক্তিগত ভ্রমণ’।
৫ আগস্ট সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজারে পৌঁছান এনসিপির মুখ্য ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ পাঁচ নেতা। তাঁরা হলেন:
এছাড়া সারজিস আলমের স্ত্রী হাফেজা রাইতাও সফরে ছিলেন। তাঁরা রয়েল টিউলিপ রিসোর্টের ৫০০১–৫০০৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সফরকারীরা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বের হন এবং কোনো ভিআইপি সুবিধা নেননি।
সফর ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, এনসিপির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাইফউদ্দীন শাহীন এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, “পিটার হাস কক্সবাজারে নেই, এবং রিসোর্টে মাত্র তিনজন বিদেশি আছেন, তারা সবাই চীনা নাগরিক।”
রয়েল টিউলিপ রিসোর্টের চিফ সিকিউরিটি অফিসারও নিশ্চিত করেন, “পিটার হাস তো দূরে থাক, বর্তমানে হোটেলে কোনো বিদেশি অতিথিও নেই।”
এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ইনানী এলাকায়। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক সেলিম সিরাজীর নেতৃত্বে একদল বিএনপি কর্মী বিক্ষোভ করেন রিসোর্টের সামনেই। তাদের অভিযোগ—“যারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে না, তারা এখন বিদেশি শক্তির সহায়তায় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”সব গুঞ্জন নাকচ করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি। সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ গুজব।”
খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, “পিটার হাসের সঙ্গে আমাদের কোথাও কোনো বৈঠক হয়নি।”
যদিও এনসিপি পক্ষ থেকে এটি ব্যক্তিগত সফর বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে যে পরিবেশে সফরটি হয়েছে এবং যে সময়টিতে তা হয়েছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে, দেশের রাজনীতিতে এনসিপির ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা, এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের ভূমিকা ঘিরে বর্তমান জটিল বাস্তবতায়—এই সফর নিছক ভ্রমণ হিসেবে সবাই দেখছেন না।